শিরিন এবাদি
শিরিন এবাদি। মানবাধিকারকর্মী। ২০০৩ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান। তাঁর জন্ম ১৯৪৭ সালে ইরানের হামেদানে। ২০০৫ সালের ১৩ জুন কনকর্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে তিনি এই বক্তৃতা করেন।
তোমাদের মাঝে আসতে পেরে ভালো লাগছে আজ। এই বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে যে সন্মান দিল, তার জন্য আমি গর্বিত ও আনন্দিত। ইরানের প্রচুর লোক বাস করে কানাডায়। আমাদের তরুণেরা পড়াশোনা করছে এখানকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। নিজেদের মেধা দিয়ে দাপটের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। তারা সবাই প্রতিনিধিত্ব করছে দেশের সংস্কৃতির। ইরানের সংস্কৃতি, সমৃদ্ধ পুরোনো ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারছে কানাডার মানুষ। সন্দেহ নেই, সংস্কৃতি আদান-প্রদানের মধ্য দিয়েই দুটো জাতির মধ্যে বন্ধুত্ব ও শ্রদ্ধার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
এ মুহূর্তে এখানে উপস্থিত আছে আমার দেশের অনেক তরুণ। আমাকে এভাবে কথা বলার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। শুধু নিজেদের ভাবনাগুলো নিয়ে কথা বলা এবং ভালো কিছু স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার মধ্য দিয়েই একটি সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। শান্তিতে থাকাটা আমাদের সবার অধিকার। এ অধিকারের কারণেই মানুষ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারে। পায় ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা। শান্তি ছাড়া সবকিছুই অর্থহীন হয়ে যায়। শান্তি তখনই সব সময়ের জন্য টিকে থাকে, যখন এটি সামাজিক ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র, এ দুটি স্তম্ভের দ্বারা তৈরি হয়। যখন একটি দেশের মানুষ ধর্মান্ধ হয় কিংবা কোনো জাতি যদি একনায়কতন্ত্র দ্বারা চালিত হয়, তবে বিনষ্ট হয় সেখানকার শান্তি। মানুষ হারিয়ে ফেলে মত প্রকাশ করার স্বাধীনতা। এটা সমাজের জন্য অভিশাপ। এমন সমাজে অস্ত্রের দ্বারা ভীত হয়ে প্রতিবাদ করার সাহস হারিয়ে ফেলে সবাই। সমাজের সব জায়গায় বিরাজ করে কবরের নিস্তব্ধতা।
আমাদের সব সময় শান্তি স্থাপনের উদ্যোগকে স্বাগত জানাতে হবে। বুঝতে হবে সামাজিক ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের মূল্য। শান্তির দুটো দিক রয়েছে। একটা ভেতরের, আরেকটা বাইরের। এ দুটোর সম্পর্কটা ঠিক যেন মহাবিশ্ব আর আমাদের পৃথিবীর মধ্যকার সম্পর্কের মতো। পৃথিবী আর মহাবিশ্বের অনেক কিছুই আমরা জানি না। রহস্যময় অনেক কিছু। মানুষের ভেতরের দিকটাও এমন রহস্য আর বৈচিত্র্যে ভরা। এই ভেতরের দিকটা আমাদের বিবেকবোধ, অপরাধবোধের অনুভূতিকে নিয়ন্ত্রণ করে। ভালো ভালো গান শুনে, প্রকৃতির সাৈন্দর্য অনুধাবন করে ভেতরের সঙ্গে বাইরের সংযোগ স্থাপন করা যায়। যদি মানুষের শোনার ক্ষমতা না থাকত, তবে কখনোই সংগীতের সৃষ্টি হতো না। না থাকত যদি দেখার ক্ষমতা, তবে কখনোই মানুষ ছবি আঁকত না।
এসব কথা বলে আমি একটাই প্রশ্ন করতে চাই, কীভাবে নিজেদের ভেতরটাকে না বুঝতে পেরে আমরা শান্তির কথা বলব? আগে বুঝতে হবে নিজেকে। ভেতরে শান্তি থাকলেই বাইরের দিকটাও সুন্দর হয়ে উঠবে। তখনই আমরা শান্তিতে থাকতে পারব, যখন একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে জীবনকে পরিচালিত করতে পারব। যারা এখনো নিজেদের লক্ষ্য সম্পর্কে জানে না, তাদের প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করে যেতে হবে। জ্ঞানার্জনের মধ্য দিয়েই একজন মানুষ জানতে পারে নিজের লক্ষ্যের কথা। তারাই ভাগ্যবান, যারা জ্ঞানার্জনের মধ্য দিয়ে জীবনের সুখ খুঁজে বেড়ায় এবং কঠিন পরিশ্রমের মাধ্যমে পৌঁছাতে সক্ষম হয় নিজেদের লক্ষ্যে।
পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোর উচিত নিজেদের ভাবনাচিন্তাগুলো এবং নতুন নতুন আবিষ্কার সম্পর্কে তরুণ শিক্ষার্থীদের জানানো। যখন অনুন্নত দেশগুলোকে জ্ঞানের আলো থেকে বঞ্চিত করে উন্নত দেশ, অস্বীকার করে নিজেদের ভাবনাগুলোকে সবার কাছে পৌঁছে দিতে, তখনই বাধাগ্রস্ত হয় সভ্যতার অগ্রগতি। এটা সবার কাছেই খুব দুঃখের একটা ব্যাপার।
নাইন-ইলেভেনের ভয়াবহ ঘটনার পর বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য কয়েকটি দেশে পড়াশোনা করার সুযোগ পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিউক্লিয়ার ও জেনেটিকস নিয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ এখন আর তাদের নেই বললেই চলে। এসব দেশের ভিসাজনিত জটিলতা বাড়ছে দিনকে দিন। পুরো পৃথিবীকে গ্লোবাল ভিলেজ ভাবলে জ্ঞান ও সম্পদ দুটোরই সমবণ্টন প্রয়োজন। জ্ঞানের আলো চারদিকে ছড়িয়ে না দিতে পারলে উন্নত দেশগুলোর কখনোই বিশ্বায়নের কথা বলা উচিত নয়।
মানুষের ভুলের কারণে আমরা তাদের ধর্ম ও জাতীয়তাকে দায়ী করতে পারি না। ধর্ম ও জাতীয়তার কারণে মানুষ কখনোই ভুল করে না। মানুষ ভুল করে তার নিজের কারণে। নাইন-ইলেভেনের ভয়াবহ অপরাধ ও অপরাধীদের কারণে তরুণ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করা উচিত নয়। জ্ঞানার্জনের সুযোগ পাওয়া সবারই অধিকার।
তাই এসো, রোপণ করি জ্ঞানের বৃক্ষ, উদার হই স্বর্গের মতো, হাওয়ার মতো ছড়িয়ে দিই বন্ধুত্বের বীজ, রুখে দাঁড়াই অজ্ঞতা ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে, সবাইকে ভালোবেসে এগিয়ে আসি একে অপরের বিপদে।
তোমাদের মাঝে আসতে পেরে ভালো লাগছে আজ। এই বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে যে সন্মান দিল, তার জন্য আমি গর্বিত ও আনন্দিত। ইরানের প্রচুর লোক বাস করে কানাডায়। আমাদের তরুণেরা পড়াশোনা করছে এখানকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। নিজেদের মেধা দিয়ে দাপটের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। তারা সবাই প্রতিনিধিত্ব করছে দেশের সংস্কৃতির। ইরানের সংস্কৃতি, সমৃদ্ধ পুরোনো ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারছে কানাডার মানুষ। সন্দেহ নেই, সংস্কৃতি আদান-প্রদানের মধ্য দিয়েই দুটো জাতির মধ্যে বন্ধুত্ব ও শ্রদ্ধার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
এ মুহূর্তে এখানে উপস্থিত আছে আমার দেশের অনেক তরুণ। আমাকে এভাবে কথা বলার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। শুধু নিজেদের ভাবনাগুলো নিয়ে কথা বলা এবং ভালো কিছু স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার মধ্য দিয়েই একটি সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। শান্তিতে থাকাটা আমাদের সবার অধিকার। এ অধিকারের কারণেই মানুষ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারে। পায় ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা। শান্তি ছাড়া সবকিছুই অর্থহীন হয়ে যায়। শান্তি তখনই সব সময়ের জন্য টিকে থাকে, যখন এটি সামাজিক ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র, এ দুটি স্তম্ভের দ্বারা তৈরি হয়। যখন একটি দেশের মানুষ ধর্মান্ধ হয় কিংবা কোনো জাতি যদি একনায়কতন্ত্র দ্বারা চালিত হয়, তবে বিনষ্ট হয় সেখানকার শান্তি। মানুষ হারিয়ে ফেলে মত প্রকাশ করার স্বাধীনতা। এটা সমাজের জন্য অভিশাপ। এমন সমাজে অস্ত্রের দ্বারা ভীত হয়ে প্রতিবাদ করার সাহস হারিয়ে ফেলে সবাই। সমাজের সব জায়গায় বিরাজ করে কবরের নিস্তব্ধতা।
আমাদের সব সময় শান্তি স্থাপনের উদ্যোগকে স্বাগত জানাতে হবে। বুঝতে হবে সামাজিক ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের মূল্য। শান্তির দুটো দিক রয়েছে। একটা ভেতরের, আরেকটা বাইরের। এ দুটোর সম্পর্কটা ঠিক যেন মহাবিশ্ব আর আমাদের পৃথিবীর মধ্যকার সম্পর্কের মতো। পৃথিবী আর মহাবিশ্বের অনেক কিছুই আমরা জানি না। রহস্যময় অনেক কিছু। মানুষের ভেতরের দিকটাও এমন রহস্য আর বৈচিত্র্যে ভরা। এই ভেতরের দিকটা আমাদের বিবেকবোধ, অপরাধবোধের অনুভূতিকে নিয়ন্ত্রণ করে। ভালো ভালো গান শুনে, প্রকৃতির সাৈন্দর্য অনুধাবন করে ভেতরের সঙ্গে বাইরের সংযোগ স্থাপন করা যায়। যদি মানুষের শোনার ক্ষমতা না থাকত, তবে কখনোই সংগীতের সৃষ্টি হতো না। না থাকত যদি দেখার ক্ষমতা, তবে কখনোই মানুষ ছবি আঁকত না।
এসব কথা বলে আমি একটাই প্রশ্ন করতে চাই, কীভাবে নিজেদের ভেতরটাকে না বুঝতে পেরে আমরা শান্তির কথা বলব? আগে বুঝতে হবে নিজেকে। ভেতরে শান্তি থাকলেই বাইরের দিকটাও সুন্দর হয়ে উঠবে। তখনই আমরা শান্তিতে থাকতে পারব, যখন একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে জীবনকে পরিচালিত করতে পারব। যারা এখনো নিজেদের লক্ষ্য সম্পর্কে জানে না, তাদের প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করে যেতে হবে। জ্ঞানার্জনের মধ্য দিয়েই একজন মানুষ জানতে পারে নিজের লক্ষ্যের কথা। তারাই ভাগ্যবান, যারা জ্ঞানার্জনের মধ্য দিয়ে জীবনের সুখ খুঁজে বেড়ায় এবং কঠিন পরিশ্রমের মাধ্যমে পৌঁছাতে সক্ষম হয় নিজেদের লক্ষ্যে।
পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোর উচিত নিজেদের ভাবনাচিন্তাগুলো এবং নতুন নতুন আবিষ্কার সম্পর্কে তরুণ শিক্ষার্থীদের জানানো। যখন অনুন্নত দেশগুলোকে জ্ঞানের আলো থেকে বঞ্চিত করে উন্নত দেশ, অস্বীকার করে নিজেদের ভাবনাগুলোকে সবার কাছে পৌঁছে দিতে, তখনই বাধাগ্রস্ত হয় সভ্যতার অগ্রগতি। এটা সবার কাছেই খুব দুঃখের একটা ব্যাপার।
নাইন-ইলেভেনের ভয়াবহ ঘটনার পর বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য কয়েকটি দেশে পড়াশোনা করার সুযোগ পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিউক্লিয়ার ও জেনেটিকস নিয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ এখন আর তাদের নেই বললেই চলে। এসব দেশের ভিসাজনিত জটিলতা বাড়ছে দিনকে দিন। পুরো পৃথিবীকে গ্লোবাল ভিলেজ ভাবলে জ্ঞান ও সম্পদ দুটোরই সমবণ্টন প্রয়োজন। জ্ঞানের আলো চারদিকে ছড়িয়ে না দিতে পারলে উন্নত দেশগুলোর কখনোই বিশ্বায়নের কথা বলা উচিত নয়।
মানুষের ভুলের কারণে আমরা তাদের ধর্ম ও জাতীয়তাকে দায়ী করতে পারি না। ধর্ম ও জাতীয়তার কারণে মানুষ কখনোই ভুল করে না। মানুষ ভুল করে তার নিজের কারণে। নাইন-ইলেভেনের ভয়াবহ অপরাধ ও অপরাধীদের কারণে তরুণ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করা উচিত নয়। জ্ঞানার্জনের সুযোগ পাওয়া সবারই অধিকার।
তাই এসো, রোপণ করি জ্ঞানের বৃক্ষ, উদার হই স্বর্গের মতো, হাওয়ার মতো ছড়িয়ে দিই বন্ধুত্বের বীজ, রুখে দাঁড়াই অজ্ঞতা ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে, সবাইকে ভালোবেসে এগিয়ে আসি একে অপরের বিপদে।
No comments:
Post a Comment