একটা ছোট্ট শিশুকে তার মা ঘুম পাড়াচ্ছে। শিশুটি ঘুমাতে চাইছে না। তার মা তাকে বাঘ-ভাল্লুকের ভয় দেখিয়ে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করতে লাগল। শিশুটি ভয় পেয়ে মাকে জিজ্ঞেস করল, ‘বাঘ-ভাল্লুক এখন কোথায়?’
মা বলল, ‘আমাদের ফুলবাগানে বসে আছে। তুমি না ঘুমালে বাঘ-ভাল্লুক এসে তোমাকে ধরে নিয়ে যাবে।’ মায়ের মুখে এই কথা শুনে শিশুটি ভয়ে ভয়ে ঘুমিয়ে পড়ল।
পরদিন শিশুটি ফুলবাগানে বাবা-মায়ের সাথে খেলা করছিল। হঠাৎ শিশুটির মনে হলো ফুলগাছের আড়ালে বাঘ-ভাল্লুক লুকিয়ে আছে। সাথে সাথে সে খেলা বন্ধ করে বাড়ির ভিতরে চলে গেল। শিশুটির মা তাকে ফুলবাগানে আনতে চাইলে শিশুটি বলল, ‘ওখানে বাঘ-ভাল্লুক আছে। ওখানে খেলব না।’ শত চেষ্টা করেও বাবা-মা আর তাকে ফুলবাগানে নিয়ে যেতে পারল না।
আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখন আমরাও ঠিক ওই শিশুটির মতোই ছিলাম। যখন কেউ বাঘ-সিংহের ভয় দেখাত তখন ভয়ে কাঁথা মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে পড়তাম। আবার কখনো কখনো বিড়ালের ভয়েও তটস্থ থাকতাম।
এখন আমরা তরুণ। যৌবনে পদার্পণ করেছি। সেই বাঘ-সিংহ-ভাল্লুকের ভয় এখন আমাদেরকে ভীত করে না। কিন্তু সেই ‘ভয়’ নামক শব্দটা এখনো আমাদের ভিতরে রয়েই গেছে।
কোনো কাজ শুরু করার আগেই আমরা ব্যর্থ হবার ভয়ে থাকি। আর কেউ যদি আমাদের কানে একবার ঢুকিয়ে দেয় যে তোমার দ্বারা ওটা সম্ভব নয়, তাহলে তো সে কাজে অগ্রসর হওয়ার চিন্তাই করি না। আমরা যারা তরুণ তাদের সবচেয়ে বড় দোষ, আমরা ছোটখাটো বিষয় নিয়ে বেশি ভয় পাই। এত বেশি ভয় পাই যে, আমরা আমাদের ভিতরের ‘প্রতিভা’ নামক বস্তুটিকে নিজেরাই মেরে ফেলি।
একটু চিন্তা করে দেখুন তো, শৈশব-কৈশোরে আপনি যেসব বিষয় নিয়ে ভয় পেতেন, সেগুলো কি আসলেই ভয় পাওয়ার মতো কোনো বিষয় ছিল? সেগুলো কি এখন আপনার কাছে হাস্যকর বলে মনে হচ্ছে না?
ঠিক তেমনি ভাবে আপনি এখন যেসব বিষয় নিয়ে ভয় পাচ্ছেন, একটা সময় পর আপনার মনে হবে, বৃথায় এসব নিয়ে ভয় পেয়েছিলাম।
আসুন আমরা শৈশব-কৈশোরের অভিজ্ঞতাকে যৌবনে কাজে লাগাই। ভয়কে আমাদের জয় করতেই হবে।
Monday, August 8, 2016
Ins7
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment