Sunday, August 28, 2016

Name ০f the Subject: English Language and Literature

Total Marks: 35

Marks Distributi০n

PART-I : Language

20

Parts of Speech:The Noun:The DeterminerThe GenderThe NumberThe PronounThe Verb:The Finite: transitive, intransitiveThe N০n-finite: participles, infinitives, gerundThe Linking VerbThe Phrasal VerbModalsThe AdjectiveThe AdverbThe PrepositionThe ConjunctionIdioms & Phrases:Meanings of PhrasesKinds of PhrasesIdentifying PhrasesClauses:The Principal ClauseThe Subordinate Clause:The Noun ClauseThe Adjective ClauseThe Adverbial Clause & its typesCorrections:The TenseThe VerbThe PrepositionThe DeterminerThe GenderThe NumberSubject-Verb AgreementSentences & Transformations:The Simple SentenceThe Compound SentenceThe Complex SentenceThe Active VoiceThe Passive VoiceThe Positive DegreeThe Comparative DegreeThe Superlative DegreeWords:MeaningsSynonymsAntonymsSpellingsUsage of words as vari০us parts of speechFormation of new w০rds by adding prefixes and suffixesComposition:Names of parts of paragraphs/letters/applicati০ns

PART-II: Literature

15

English Literature:Names of writers of literary pieces from Elizabethan peri০d to the 21st Century.
Quotations from drama/p০etry of different ages.

বিষয়ের নাম : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য

পূর্ণমান : ৩৫

মান বণ্টন

ভাষা :

প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ, বানান ও বাক্য শুদ্ধি, পরিভাষা, সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ, ধ্বনি, বর্ণ, শব্দ, পদ, বাক্য, প্রত্যয়, সন্ধি ও সমাস

১৫

সাহিত্য :

(ক) প্রাচীন ও মধ্যযুগ

০৫

(খ) আধুনিক যুগ (১৮০০-বর্তমান পর্যন্ত)

১৫

সর্বমোট-

৩৫

Tuesday, August 9, 2016

Ins10

শিরিন এবাদি
শিরিন এবাদি। মানবাধিকারকর্মী। ২০০৩ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান। তাঁর জন্ম ১৯৪৭ সালে ইরানের হামেদানে। ২০০৫ সালের ১৩ জুন কনকর্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে তিনি এই বক্তৃতা করেন।
তোমাদের মাঝে আসতে পেরে ভালো লাগছে আজ। এই বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে যে সন্মান দিল, তার জন্য আমি গর্বিত ও আনন্দিত। ইরানের প্রচুর লোক বাস করে কানাডায়। আমাদের তরুণেরা পড়াশোনা করছে এখানকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। নিজেদের মেধা দিয়ে দাপটের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। তারা সবাই প্রতিনিধিত্ব করছে দেশের সংস্কৃতির। ইরানের সংস্কৃতি, সমৃদ্ধ পুরোনো ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারছে কানাডার মানুষ। সন্দেহ নেই, সংস্কৃতি আদান-প্রদানের মধ্য দিয়েই দুটো জাতির মধ্যে বন্ধুত্ব ও শ্রদ্ধার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
এ মুহূর্তে এখানে উপস্থিত আছে আমার দেশের অনেক তরুণ। আমাকে এভাবে কথা বলার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। শুধু নিজেদের ভাবনাগুলো নিয়ে কথা বলা এবং ভালো কিছু স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার মধ্য দিয়েই একটি সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। শান্তিতে থাকাটা আমাদের সবার অধিকার। এ অধিকারের কারণেই মানুষ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারে। পায় ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা। শান্তি ছাড়া সবকিছুই অর্থহীন হয়ে যায়। শান্তি তখনই সব সময়ের জন্য টিকে থাকে, যখন এটি সামাজিক ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র, এ দুটি স্তম্ভের দ্বারা তৈরি হয়। যখন একটি দেশের মানুষ ধর্মান্ধ হয় কিংবা কোনো জাতি যদি একনায়কতন্ত্র দ্বারা চালিত হয়, তবে বিনষ্ট হয় সেখানকার শান্তি। মানুষ হারিয়ে ফেলে মত প্রকাশ করার স্বাধীনতা। এটা সমাজের জন্য অভিশাপ। এমন সমাজে অস্ত্রের দ্বারা ভীত হয়ে প্রতিবাদ করার সাহস হারিয়ে ফেলে সবাই। সমাজের সব জায়গায় বিরাজ করে কবরের নিস্তব্ধতা।
আমাদের সব সময় শান্তি স্থাপনের উদ্যোগকে স্বাগত জানাতে হবে। বুঝতে হবে সামাজিক ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের মূল্য। শান্তির দুটো দিক রয়েছে। একটা ভেতরের, আরেকটা বাইরের। এ দুটোর সম্পর্কটা ঠিক যেন মহাবিশ্ব আর আমাদের পৃথিবীর মধ্যকার সম্পর্কের মতো। পৃথিবী আর মহাবিশ্বের অনেক কিছুই আমরা জানি না। রহস্যময় অনেক কিছু। মানুষের ভেতরের দিকটাও এমন রহস্য আর বৈচিত্র্যে ভরা। এই ভেতরের দিকটা আমাদের বিবেকবোধ, অপরাধবোধের অনুভূতিকে নিয়ন্ত্রণ করে। ভালো ভালো গান শুনে, প্রকৃতির সাৈন্দর্য অনুধাবন করে ভেতরের সঙ্গে বাইরের সংযোগ স্থাপন করা যায়। যদি মানুষের শোনার ক্ষমতা না থাকত, তবে কখনোই সংগীতের সৃষ্টি হতো না। না থাকত যদি দেখার ক্ষমতা, তবে কখনোই মানুষ ছবি আঁকত না।
এসব কথা বলে আমি একটাই প্রশ্ন করতে চাই, কীভাবে নিজেদের ভেতরটাকে না বুঝতে পেরে আমরা শান্তির কথা বলব? আগে বুঝতে হবে নিজেকে। ভেতরে শান্তি থাকলেই বাইরের দিকটাও সুন্দর হয়ে উঠবে। তখনই আমরা শান্তিতে থাকতে পারব, যখন একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে জীবনকে পরিচালিত করতে পারব। যারা এখনো নিজেদের লক্ষ্য সম্পর্কে জানে না, তাদের প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করে যেতে হবে। জ্ঞানার্জনের মধ্য দিয়েই একজন মানুষ জানতে পারে নিজের লক্ষ্যের কথা। তারাই ভাগ্যবান, যারা জ্ঞানার্জনের মধ্য দিয়ে জীবনের সুখ খুঁজে বেড়ায় এবং কঠিন পরিশ্রমের মাধ্যমে পৌঁছাতে সক্ষম হয় নিজেদের লক্ষ্যে।
পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোর উচিত নিজেদের ভাবনাচিন্তাগুলো এবং নতুন নতুন আবিষ্কার সম্পর্কে তরুণ শিক্ষার্থীদের জানানো। যখন অনুন্নত দেশগুলোকে জ্ঞানের আলো থেকে বঞ্চিত করে উন্নত দেশ, অস্বীকার করে নিজেদের ভাবনাগুলোকে সবার কাছে পৌঁছে দিতে, তখনই বাধাগ্রস্ত হয় সভ্যতার অগ্রগতি। এটা সবার কাছেই খুব দুঃখের একটা ব্যাপার।
নাইন-ইলেভেনের ভয়াবহ ঘটনার পর বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য কয়েকটি দেশে পড়াশোনা করার সুযোগ পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিউক্লিয়ার ও জেনেটিকস নিয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ এখন আর তাদের নেই বললেই চলে। এসব দেশের ভিসাজনিত জটিলতা বাড়ছে দিনকে দিন। পুরো পৃথিবীকে গ্লোবাল ভিলেজ ভাবলে জ্ঞান ও সম্পদ দুটোরই সমবণ্টন প্রয়োজন। জ্ঞানের আলো চারদিকে ছড়িয়ে না দিতে পারলে উন্নত দেশগুলোর কখনোই বিশ্বায়নের কথা বলা উচিত নয়।
মানুষের ভুলের কারণে আমরা তাদের ধর্ম ও জাতীয়তাকে দায়ী করতে পারি না। ধর্ম ও জাতীয়তার কারণে মানুষ কখনোই ভুল করে না। মানুষ ভুল করে তার নিজের কারণে। নাইন-ইলেভেনের ভয়াবহ অপরাধ ও অপরাধীদের কারণে তরুণ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করা উচিত নয়। জ্ঞানার্জনের সুযোগ পাওয়া সবারই অধিকার।
তাই এসো, রোপণ করি জ্ঞানের বৃক্ষ, উদার হই স্বর্গের মতো, হাওয়ার মতো ছড়িয়ে দিই বন্ধুত্বের বীজ, রুখে দাঁড়াই অজ্ঞতা ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে, সবাইকে ভালোবেসে এগিয়ে আসি একে অপরের বিপদে।

Ins9


বিশ্বটাকে বদলে দাও : ড্যানিয়েল সল গোল্ডিন


ড্যানিয়েল সল গোল্ডিন। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার সাবেক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর (১৯৯২-২০০১)। গোল্ডিনের তত্ত্বাবধানেই ১৯৯৭ সালে মঙ্গল গ্রহ নিয়ে গবেষণার মহাকাশযান ‘মার্স পাথফাইন্ডার’ যাত্রা শুরু করে। ১৯৪০ সালের ২৩ জুলাই নিউইয়র্কে তাঁর জন্ম। ২০০১ সালের ৮ জুন ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি এই বক্তব্য দেন।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আসতে পেরে আমি খুব গর্বিত। আগের বছরের (২০০০) ঠিক এই দিন ইতালির ইউনিভার্সিটি অব পাডুয়া আমাকে সম্মানজনক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে। সেখানেও আমি বক্তব্য দিয়েছিলাম। আমার প্রিয় মানুষ ও আদর্শ গ্যালিলিও গ্যালিলাই পাডুয়া বিশ্ববিদ্যালয়েরই অধ্যাপক ছিলেন। সেখানেই তিনি তাঁর প্রথম টেলিস্কোপটি বানিয়েছিলেন। সেই টেলিস্কোপ দিয়ে তিনি আবিষ্কার করেছিলেন মহাকাশের অনেক অজানা। পাডুয়াতেই তিনি সিডেরাস নানসিয়াস বইটি লিখেছিলেন। আমি আরও গর্বিত, কারণ পাডুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ঘরে গ্যালিলিও তখনকার সর্বসেরা শিক্ষার্থীদের সামনে বক্তব্য দিতেন, আমি সেই ঘরেই বক্তব্য দিয়েছিলাম। সেদিন ওখানে যে পোশাকটা পরেছিলাম, আজ সেটাই পরে আছি। মূলত এ পোশাকটা ওখানকার ঐতিহ্য।
কিন্তু তোমরা হয়তো ভাবছ, কেন আমি এই পোশাকটা পরে আছি? আমি এটা পরেছি তোমাদের স্মৃতিতে একটা প্রতিচ্ছবি ফেলার জন্য। সামনে তোমাদের জীবনের গূঢ় রহস্য উন্মোচনের দিন। তোমরা হয়তো আমাকে মনে রাখবে না। কিন্তু এই টুপি ও কোটটা তোমাদের চোখে ভেসে থাকবে।
আর মনে পড়বে গ্যালিলিওকে, তাঁর জীবন ও আদর্শকে। আমৃত্যু জ্ঞানচর্চা ছিল তাঁর জীবনের আদর্শ। তিনি উৎকর্ষ সাধনে নিজেকে ব্রত করেছিলেন। তিনি শুধু সত্যের জন্য লড়াই করতেন তা-ই নয়, তিনি বিশ্বাস করতেন যে সত্যকে তিনি আবিষ্কার করতে পারবেন। গ্যালিলিওর মতো তোমরাও স্বাপ্নিক হও, সৃজনশীল ও সাহসী হও।
মনে রাখবে, ভয় নামের ঘোর কুয়াশা ও নিন্দুকের সমালোচনার আড়ালেই লুকিয়ে থাকতে পারে অজানা কোনো সত্য। এই সত্যকে জানতে হলে প্রাণে সাহস থাকা চাই। অবশ্যই নিজের ওপর আস্থা রাখতে হবে। অজানাকে জানার অদম্য ইচ্ছা ও কৌতূহল থাকতে হবে, লক্ষ্য হতে হবে অটুট।
দেখো, বিগত ৫০ বছরে বড় বড় অনেক অর্জন-আবিষ্কার আমরা করেছি। জেট বিমান থেকে মহাশূন্যে অভিযাত্রা, টিভি থেকে এমপিথ্রি, ইন্সট্যান্ট কফি থেকে তাৎক্ষণিক বার্তা প্রেরণ। এসব আবিষ্কার ও উদ্ভাবন কেবল পৃথিবীকেই বদলে দেয়নি, বদলেছে পৃথিবীতে আমাদের অবস্থানকেও।
আরও যেসব অনাবিষ্কৃত সমস্যা আছে, তোমরাই পারো তার সমাধান বের করতে। অবশ্য সে জন্য তোমাদের প্রশ্ন করার অভ্যাস থাকতে হবে।
দেখো, আমরা এখনো আগের মতোই কম গতির বিমানে উড়ে বেড়াই। এখনকার কম্পিউটারগুলো শুধু গণনা করতে পারে, এগুলোর চিন্তাশক্তি বলে কিছু নেই। কিন্তু উৎকর্ষ সাধনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা, আত্মবিশ্বাস ও সত্যানুসন্ধানের সাহস যাদের আছে, তোমাদের মেধা ও শ্রমের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একদিন এসব সমস্যা উবে যাবে।
সেদিন কম্পিউটারগুলো কাজ করবে মানব-মস্তিষ্কের মতো। পাখি যেভাবে ওড়ে, বিমানগুলো সেদিন সেভাবেই আকাশে উড়ে বেড়াবে। প্রযুক্তি-ব্যবস্থা হবে স্বনিয়ন্ত্রিত। সিলিকন চিপভিত্তিক বর্তমান কম্পিউটারের খোঁজ সেদিন শুধু জাদুঘরেই মিলতে পারে, ঠিক ডাইনোসরদের পাশে।
যদি উৎকর্ষ সাধন ও সত্যানুসন্ধানই তোমার লক্ষ্য হয়, তবে তোমার স্বপ্ন আর গ্যালিলিওর স্বপ্ন একটাই। যেসব রোগের কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি, একদিন তোমরাই তার আরোগ্য লাভের পথ দেখাবে। যে জীবনায়ু নিয়ে একজন মানুষ জন্ম নেয়, কমপক্ষে সেই সময় পর্যন্ত বেঁচে থাকার পথটা পৃথিবীকে তোমরাই দেখাবে। বিশ্বব্যাপী আবহাওয়ার যে রদবদল, তার সঠিক সমাধানও তোমরাই বের করবে। আমাদের সৌরজগতের বাইরে, মহাকাশের নক্ষত্ররাজিতে একদিন তোমরা অভিযান চালাবে। তোমরা হয়তো আকাশপানে তাকিয়ে প্রশ্ন করবে, যে প্রশ্নটা আদিম মানুষেরাও করত, আমরা কি একা?
এসব স্বপ্ন দেখা কি উচ্চাভিলাষী? স্বপ্নগুলো কি আকাশ সমান বড় বা ঝুঁকিপূর্ণ? জেনে রেখো, নিশ্চিতভাবে নিন্দুকের সমালোচনার ফাঁদে তুমি পড়তে পারো। সন্দেহ নেই, বেশ কিছু বিপদ তোমার সামনে আসবে। কিন্তু ভুলে যেয়ো না, গ্যালিলিওকে তাঁর বিশ্বাসের জন্য গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছিল। মানুষ তাকে বিপথগামী ভেবেছিল। তোমরা ভয় পেয়ো না। জেগে ওঠো। মন থেকে ভয় ঝেড়ে ফেলো। সামনের দিকে এগিয়ে যাও।
জীবনে ব্যর্থ না হওয়াটা উৎকর্ষের উদাহরণ নয়। বরং ব্যর্থতা বলে দেয় যে তোমার স্বপ্নটা অসাধ্য কিছু নয়। কঠোর পরিশ্রম দিয়ে ব্যর্থতাকে তুমি জয় করতে পারো। ব্যর্থতা কোনো প্রতিবন্ধক হতে পারে না, যদি না তুমি একে এড়িয়ে যাও কিংবা ব্যর্থতা থেকে শিখতে না চাও।
সফল হওয়ার পর তুমি কীভাবে প্রতিক্রিয়া করো—তাতে তোমার চরিত্রের প্রকৃত রূপটা ফুটে উঠবে না। ব্যর্থ হওয়ার পর তুমি কী করো, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিজেকে বিশ্বাস করো। শেখা, উৎকর্ষ সাধন ও সত্য প্রকাশে সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকো। এটাই ছিল গ্যালিলিওর শিক্ষা। এই শিক্ষাটা আমি আমার বাবার কাছ থেকেও পেয়েছি। এখানে দাঁড়িয়ে আছি—এটা দেখতে পেলে তিনি খুব গর্বিত হতেন। সম্ভবত তিনিও প্রশ্ন করতেন, ‘ড্যান, তোমার গায়ে এই পোশাক কেন?’ তবে তিনি খুশি হতেন নিশ্চয়।
ছয় বছর হলো বাবা মারা গেছেন। গ্রেট ডিপ্রেশনের সময় আমার বাবা কলেজ থেকে জীববিজ্ঞানসহ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। পরের বেশ কয়েক বছর তিনি কোনো চাকরি পাননি। তিনি ডাকঘরে কাজ করেছিলেন। অবশেষে অবশ্য শিক্ষক হয়েছিলেন তিনি, এ পেশাটাকে তিনি খুব পচ্ছন্দ করতেন।
জীবনভর শেখার আত্মপ্রতিশ্রুতি ছিল তাঁর। তিনি সর্বদাই সত্য বলতেন। একইভাবে নিজের একমাত্র ছেলেকেও সে রকমই দেখতে চেয়েছিলেন তিনি।
সবাই বলে, তোমরা হলে ভবিষ্যৎ। আর আমি বলি, ভবিষ্যৎ এখনই। সুতরাং কল্পনাশক্তি ও উদ্ভাবনীশক্তি এবং দুঃসাহসিকতা দিয়ে অভিযান চালাও, আবিষ্কার করো, বিশ্বটাকে দাও বদলে।
ভালোবাসা ও কাজ—দুটোর জন্যই সময় রাখো। তোমরা ব্যস্ত হয়ে পড়বে, কিন্তু কখনোই পরিবার ও বন্ধুদের ভুলে যেয়ো না।
আমি আগেও বলেছি, গ্যালিলিও যদি বেঁচে থাকতেন, তবে তিনি এখানে শিক্ষকতা করতে চাইতেন। আরেক দিক থেকে গ্যালিলিও এখানে রয়েছেনু। প্রকৃতপক্ষে, আমার সামনে তোমরা দুই হাজার ৪০০ গ্যালিলিও বসে আছো, যারা আজ ডিগ্রি পাবে।
তোমরা কখনোই তোমাদের আবিষ্কারকে অমূলক মনে করবে না। জীবনভর জ্ঞানচর্চা করো। উত্তরোত্তর উৎকর্ষ সাধনে ব্রত হও। শুধু সত্যের সন্ধান করো না, নিজেকেও বিশ্বাস করো। তাহলেই তুমি সত্যকে খুঁজে পাবে।
অভিনন্দন সবাইকে। তোমাদের যাত্রা শুভ হোক।


Monday, August 8, 2016

Ins8


এক তরুণী তার বাবাকে সাথে নিয়ে গাড়ি ড্রাইভ করছিলো। কিছুক্ষণ পর আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে গেলো এবং তুমুল ঝড় শুরু হলো। তরুণীটি ভয় পেয়ে বাবাকে জিজ্ঞাসা করলো, ‘বাবা কি করবো!’ পাশের সিট থেকে বাবা মেয়েকে সাহস যোগালেন, ‘তুমি ড্রাইভ করতে থাকো। থেমো না।’ তরুণীটি গাড়ি ড্রাইভ করতে লাগলো, কিন্তু ঝড়ের প্রচন্ডতা আরো বেড়ে যাওয়াতে গাড়ি ড্রাইভ করা কঠিন হয়ে পড়ছিলো।
কিছুক্ষণ পর গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠলো। তরুণীটি আবারো তার বাবার কাছে জানতে চাইলো থামবে কিনা। বাবা আগের মতই ড্রাইভ করতে বললেন। কিছুদুর ড্রাইভ করার পরে তরুণী লক্ষ্য করলো তার পথের কিছু সামনে ষোলো চাকার একটা লরি রাস্তার পাশে সাইড করে থেমে যাচ্ছে।
তার সামনে আরো কিছু গাড়ি রাস্তার একপাশে পার্ক করে থেমে আছে। দৃশ্যটি দেখে তরুণীটি বাবাকে বললো, বাবা এবার আমাদের থামতেই হবে। আশেপাশের সবাই দেখো গাড়ি ড্রাইভ করা বন্ধ করে পথের পাশে থেমে যাচ্ছে। কিন্তু বাবা সেই আগের মতই তার সিদ্ধান্তে অটল। হাল ছেড়োনা। তুমি ড্রাইভ করতে থাকো।
বাবার কথা শুনে মেয়েটি সাহস পেলো এবং প্রচন্ড ঝড়ের মধ্যেও আস্তে আস্তে সামনের দিকে আগাতে লাগলো।
এভাবে কয়েক মাইল যাবার পরে তরুণী টি আবিষ্কার করলো, ঝড় থেমে গেছে এবং সূর্য্য উঠে গেছে। এবার বাবা বললেন, এবার গাড়ি থামিয়ে বাইরে বেরোতে পারো। তরুণী টি অবাক হয়ে বাবাকে জিজ্ঞাসা করলো, ‘এখন কেন বলছো?’ বাবা বললেন, ‘এখন এজন্যই বের হতে বলছি যাতে তুমি পেছনের দিকে তাকাতে পারো এবং সেই সব মানুষদের দেখতে পারো যারা হাল ছেড়ে দিয়েছিলো এবং থেমে গিয়েছিলো। ওঁরা এখনো ঝড়ের মধ্যেই আছে। কিন্তু তুমি হাল ছাড়োনি এবং থেমে যাওনি, তাই তোমার ঝড় এখন শেষ!’
জীবনের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার প্রযোজ্য। জীবনে চলার পথে আমরা অর্থনৈতিক, আবেগিক, পারিবারিক, সামাজিক ক্ষেত্রে নানা ধরণের ঝড়ের মুখোমুখি হই এবং ভয় পেয়ে থেমে যাই। থেমে থাকার ফলে সেই ঝড়ে আমাদের জীবনগাড়ি নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় যা আত্নবিশ্বাসে ঘাটতি এনে দেয়।
জীবনের রাস্তা রেসিং ড্রাইভের মত মসৃণ নয়। জীবনের পথ বড় বন্ধুর। চলার পথে নানা ধরণের বাধা-বিপত্তিই আসবেই, কিন্তু থেমে থাকলে ক্ষতির পরিমাণই শুধু বাড়বে। কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে আশেপাশের মানুষগুলো কিংবা সবচেয়ে কঠিন লোকটিও হাল ছেড়ে দিয়েছে বলেই যে আপনাকেও হাল ছাড়তে হবে এমন নয়। পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক না কেন, ধীরে-ধীরে সামনের দিকে অগ্রসর হতে থাকুন। অবশ্যই দেখবেন সাফল্যের ঝলমলে সূর্য্যটা আবারো আপনার মাথার উপর হেসে উঠবে।

Ins7


একটা ছোট্ট শিশুকে তার মা ঘুম পাড়াচ্ছে। শিশুটি ঘুমাতে চাইছে না। তার মা তাকে বাঘ-ভাল্লুকের ভয় দেখিয়ে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করতে লাগল। শিশুটি ভয় পেয়ে মাকে জিজ্ঞেস করল, ‘বাঘ-ভাল্লুক এখন কোথায়?’
মা বলল, ‘আমাদের ফুলবাগানে বসে আছে। তুমি না ঘুমালে বাঘ-ভাল্লুক এসে তোমাকে ধরে নিয়ে যাবে।’ মায়ের মুখে এই কথা শুনে শিশুটি ভয়ে ভয়ে ঘুমিয়ে পড়ল।
পরদিন শিশুটি ফুলবাগানে বাবা-মায়ের সাথে খেলা করছিল। হঠাৎ শিশুটির মনে হলো ফুলগাছের আড়ালে বাঘ-ভাল্লুক লুকিয়ে আছে। সাথে সাথে সে খেলা বন্ধ করে বাড়ির ভিতরে চলে গেল। শিশুটির মা তাকে ফুলবাগানে আনতে চাইলে শিশুটি বলল, ‘ওখানে বাঘ-ভাল্লুক আছে। ওখানে খেলব না।’ শত চেষ্টা করেও বাবা-মা আর তাকে ফুলবাগানে নিয়ে যেতে পারল না।
আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখন আমরাও ঠিক ওই শিশুটির মতোই ছিলাম। যখন কেউ বাঘ-সিংহের ভয় দেখাত তখন ভয়ে কাঁথা মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে পড়তাম। আবার কখনো কখনো বিড়ালের ভয়েও তটস্থ থাকতাম।
এখন আমরা তরুণ। যৌবনে পদার্পণ করেছি। সেই বাঘ-সিংহ-ভাল্লুকের ভয় এখন আমাদেরকে ভীত করে না। কিন্তু সেই ‘ভয়’ নামক শব্দটা এখনো আমাদের ভিতরে রয়েই গেছে।
কোনো কাজ শুরু করার আগেই আমরা ব্যর্থ হবার ভয়ে থাকি। আর কেউ যদি আমাদের কানে একবার ঢুকিয়ে দেয় যে তোমার দ্বারা ওটা সম্ভব নয়, তাহলে তো সে কাজে অগ্রসর হওয়ার চিন্তাই করি না। আমরা যারা তরুণ তাদের সবচেয়ে বড় দোষ, আমরা ছোটখাটো বিষয় নিয়ে বেশি ভয় পাই। এত বেশি ভয় পাই যে, আমরা আমাদের ভিতরের ‘প্রতিভা’ নামক বস্তুটিকে নিজেরাই মেরে ফেলি।
একটু চিন্তা করে দেখুন তো, শৈশব-কৈশোরে আপনি যেসব বিষয় নিয়ে ভয় পেতেন, সেগুলো কি আসলেই ভয় পাওয়ার মতো কোনো বিষয় ছিল? সেগুলো কি এখন আপনার কাছে হাস্যকর বলে মনে হচ্ছে না?
ঠিক তেমনি ভাবে আপনি এখন যেসব বিষয় নিয়ে ভয় পাচ্ছেন, একটা সময় পর আপনার মনে হবে, বৃথায় এসব নিয়ে ভয় পেয়েছিলাম।
আসুন আমরা শৈশব-কৈশোরের অভিজ্ঞতাকে যৌবনে কাজে লাগাই। ভয়কে আমাদের জয় করতেই হবে।

Ins6


সমুদ্রের মাঝখানে এক জাহাজ প্রচন্ড ঝড়ের মধ্যে পরে লন্ডভন্ড হয়ে গেল। সেই জাহাজের বেঁচে যাওয়া এক যাত্রী ভাসতে ভাসতে এক নির্জন দ্বীপে এসে পৌছালো। জ্ঞান ফেরার পর প্রথমেই সে আল্লাহর কাছে প্রান খুলে ধন্যবাদ
জানালো তার জীবন বাঁচানোর জন্যে। প্রতিদিন সে দ্বীপের তীরে এসে বসে থাকতো যদি কোনো জাহাজ সেদিকে আসে এই আশায়। কিন্তু প্রতিদিনই তাকে হতাশ হয়ে ফিরে আসতে হতো। এরই মধ্যে সে সমুদ্রতীরে তার জন্যে একটা ছোট ঘর তৈরী করে ফেললো।
সমুদ্রের মাছ ধরে এবং বন থেকে ফলমূল শিকার সে বেঁচে থাকলো। এরই মধ্যে সে একদিন খাবারের খোঁজে বনের মধ্যে গেল। বন থেকে সে যখন ফিরে এলো তখন দেখলো যে তার রান্না করার চুলা থেকে আগুন লেগে পুরো ঘরটিই ছাই হয়ে গিয়েছে এবং তার কালো ধোঁয়ায় আকাশ ভরে গিয়েছে।
লোকটি চিৎকার করে উঠলো, ‘হায় আল্লাহ, তুমি আমার ভাগ্যে এটাও রেখেছিলে!’ পরদিন সকালে এক জাহাজের আওয়াজে তার ঘুম ভাঙলো। জাহাজটি সেই দ্বীপের দিকে তাকে উদ্ধার করার জন্যই আসছিলো। সে অবাক হয়ে বললো, ‘তোমরা কিভাবে জানলে যে আমি এখানে আটকা পড়েছি।’
জাহাজের ক্যাপ্টেন জানালো, ‘তোমার জ্বালানো ধোঁয়ার সংকেত দেখে।’

যখন আমরা খুব বিপদে পরি তখন আমরা প্রায় সবাই হতাশ হয়ে পড়ি। আমরা ভুলে যাই, ‘তিনি যা করেন তা আমাদের ভালোর জন্যেই করেন।’ তাই এরপর যখন আপনার ঘর পুড়তে থাকবে মনে রাখবেন এটা হয়তো সেই ধোঁয়ার সংকেত যা আপনাকে বিপদ থেকে উদ্ধার করবে।

Ins5


এসো সুখী পৃথিবীর জন্য লড়ি : চার্লি চ্যাপলিন

ছোটখাটো দুই পায়ে বিশাল আকারের জুতা। হাতে বেতের ছড়ি, বিশেষ ভঙ্গিতে ছাঁটা গোঁফে গুঁজে রাখা চুরুট, গোল হ্যাট আর আঁকা কালো দুই চোখ—এই আমাদের পরিচিত, প্রিয় চার্লি চ্যাপলিন। তাঁর পুরো নাম চার্লস স্পেন্সর চ্যাপলিন। চ্যাপলিনের উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র: দ্য সার্কাস, মডার্ন টাইমস, দ্য কিড, সিটি লাইটস, মঁসিয়ে ভেরদু, দ্য গ্রেট ডিক্টেটর প্রভৃতি। মনে করা হয়, দ্য গ্রেট ডিক্টেটর (১৯৪০) হিটলারকে ব্যঙ্গ করে নির্মিত। এ সিনেমায় চ্যাপলিন একটি বক্তৃতা দেন। বহু বছর পার হলেও আজও ভাষণটি তাঁর প্রেক্ষিত হারায়নি।

আমি খুবই দুঃখিত, তবে এটা সত্যি যে আমি কখনোই সম্রাট হতে চাইনি। এটা আমার কাজ নয়। আমি কাউকে শাসন কিংবা অধস্তন করতে চাই না। বরং আমি সবাইকে সাহায্য করতে চাই, তা সে ইহুদি, খ্রিষ্টান, সাদা, কালো যে-ই হোক না কেন।
মানুষ মাত্রই একে অন্যকে সাহায্য করতে চায়। পরস্পরকে সুখী করার মধ্য দিয়ে বাঁচতে চায়। অন্যকে কষ্ট দিয়ে আমরা কখনোই সুখী হতে পারি না। কাউকে ঘৃণা করেও সুখী হওয়া যায় না। সেই সঙ্গে এটাও সত্যি, পৃথিবীটা সব মানুষের। প্রভু এটাকে যথেষ্ট সম্পদশালী করে তৈরি করেছেন। প্রতিটি প্রাণীর ভরণপোষণের সামর্থ্য এ পৃথিবীমাতার আছে। পাশাপাশি প্রভু আমাদের প্রত্যেককে স্বাধীন ও সুন্দর জীবনযাপনের অধিকারও দিয়েছেন।
কিন্তু দুর্ভাগ্য, আমরা জীবনযাপনের সেই স্বর্গীয় পথটি হারিয়ে ফেলেছি। লোভ মানুষের আত্মাকে কলুষিত করে ফেলেছে, বিশ্বকে ঘৃণায় ছেয়ে ফেলেছে, আমাদের দুর্ভাগ্য আর যুদ্ধে ঠেলে দিয়েছে। আমরা জীবনে গতি এনেছি ঠিকই, কিন্তু নিজেদের আত্মাকে বন্দী করে ফেলেছি। যন্ত্রের আবিষ্কার আমাদের মধ্যে অপরিসীম চাওয়ার জন্ম দিয়েছে। জ্ঞান আমাদের হতাশাবাদী করে তুলেছে। আমাদের নির্মম ও কঠোর করে তুলেছে। আমরা অনেক কিছু ভাবি, কিন্তু অনুভব করি খুব কম। তাই এখন আমাদের আধুনিকতার অনুষঙ্গ নানা রকমের যন্ত্রপাতির চেয়েও বেশি প্রয়োজন মানবিকতা। বুদ্ধির চেয়ে বেশি প্রয়োজন অন্যের প্রতি মমতা ও বিনয়। এসব মানবিক গুণ ছাড়া জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়বে, হারিয়ে যাবে সব অর্জন।
অ্যারোপ্লেন কিংবা রেডিও—বিশ্ববাসীকে কাছাকাছি এনে দিয়েছে, পৃথিবীকে ছোট করে দিয়েছে। এসব আবিষ্কারের মূল উদ্দেশ্য ছিল মানবকল্যাণ, বিশ্ব ভ্রাতৃত্ববোধ, সবার মধ্যে ঐক্যের বন্ধন। এসব আবিষ্কারের ফলেই এ মুহূর্তে আমার কণ্ঠও পৌঁছে যাচ্ছে সারা বিশ্বের লাখ লাখ নারী-পুরুষ, নিপীড়িত মানুষের কাছে। পৃথিবীর যে প্রান্তেই হোক, আমার কণ্ঠ যে শুনতে পাচ্ছে, তাকেই বলছি: হাল ছেড়ো না।
আজ আমরা যে দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, মানবকল্যাণবিমুখ কিছু মানুষের ঘৃণা ও লালসার কারণে চারদিকে যে আঁধার নেমে এসেছে, তা চিরকাল থাকবে না। জনগণের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া ক্ষমতা আবার তাদের কাছেই ফিরে আসবে। আর মানুষের অস্তিত্ব যত দিন থাকবে, আত্মার স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাও তত দিন বেঁচে থাকবে মানুষের মাঝে।
আর সৈনিক ভাইদের বলছি: তোমাদের অধিনায়কেরা তোমাদের দাস বলে মনে করে। তারা তোমাদের জীবন নিয়ন্ত্রণ করে, তোমরা কী করবে, কী করবে না, কী ভাববে, কী অনুভব করবে—এ রকম সবকিছু নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে, তোমাদের সঙ্গে গবাদিপশুর মতো ব্যবহার করে। তাদের কাছে নিজেদের বিকিয়ে দিয়ো না। এসব কৃত্রিম মানুষের হূদয় বলে কিছু নেই, যান্ত্রিকভাবেই তারা ভাবে, বোঝে। কিন্তু তোমরা তো যন্ত্র নও। তোমরা গবাদিপশু নও। তোমরা মানুষ। তোমাদের হূদয়ে মানুষের জন্য ভালোবাসা সঞ্চিত রয়েছে। মানুষকে তোমরা ঘৃণা করতে পারো না। তোমরা বরং ঘৃণা করো মিথ্যা ও যান্ত্রিকতাকে। তাই বলছি, সৈনিক ভাইয়েরা, দাসত্বের জন্য যুদ্ধ কোরো না, বরং লড়াই করো স্বাধীনতার জন্য।
আর যারা সাধারণ মানুষ, তাদের বলছি: তোমাদের যেমন নতুন নতুন যন্ত্রপাতি আবিষ্কারের ক্ষমতা রয়েছে, তেমনি তোমরাই পারো সুখের সন্ধান দিতে। তোমাদের আছে জীবনকে স্বাধীন ও সুন্দর করে তোলার ক্ষমতা। জীবনকে এক রোমাঞ্চকর অভিযাত্রা করে তোলার ক্ষমতা। তাই এসো, আমরা একত্র হই, সংগঠিত হই। একটা নতুন, স্বর্গীয় পৃথিবী গড়তে লড়াই করি। এ লড়াই তারুণ্যকে দেবে একটা নিশ্চিত ভবিষ্যৎ, বার্ধক্যকে দেবে নিরাপত্তা। এসো, এ লড়াইয়ে নামার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই।
চলো, লড়াই করি স্বাধীন একটি পৃথিবীর জন্য। অতিক্রম করে যাই দেশ-কালের বাধা। ভেঙে ফেলি লোভ, ঘৃণা, অসহিষ্ণুতার বেড়াজাল। লড়াই করি এমন একটি পৃথিবীর জন্য, যেখানে যুক্তি ও বিজ্ঞান মানুষকে এগিয়ে চলার পথ দেখাবে। মানুষের এই অগ্রগতিই তাকে সুখী করে তুলবে। আর এগিয়ে চলার আকাঙ্ক্ষা মানুষকে সুখী করে তুলবে। এমন একটি সুখী জীবনের জন্য এসো আমরা একত্র হই।
মনে রেখো, মেঘ একসময় কেটে যায়, সূর্য আলো ছড়ায়। আমরাও তেমনই অন্ধকারের জাল ছিঁড়ে আলোর মুখোমুখি হব। আমরা এক নতুন পৃথিবী গড়ব। আমরা এমন এক স্নিগ্ধ উজ্জ্বল পৃথিবী গড়ব, যেখানে মানুষ তার লোভ, নিষ্ঠুরতাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাবে, ছাড়িয়ে যাবে নিজেকে। মানুষের আত্মাকে ওড়ার ক্ষমতা দিয়েছেন প্রভু। তাই শেষ পর্যন্ত সে তার ডানা মেলে দেবেই। সে উড়ে যাবে রঙিন রংধনুর দিকে, আশার আলোর দিকে, উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পানে। এমন অসীম ক্ষমতাধর আত্মা বিরাজ করে তোমার, আমার, আমাদের সবার মধ্যে। তাই হতাশ হোয়ো না, বরং সাহসী হও বন্ধু।

Saturday, August 6, 2016

Ins4


তরুণদের ভবিষ্যৎ মানে দেশের ভবিষ্যৎ : অং সান সু চি

অং সান সু চি মিয়ানমারের (বার্মা) গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক। ১৯৯১ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী। জন্ম রেঙ্গুনে, ১৯৪৫ সালের ১৯ জুন। ১৯৬৯ সালে অক্সফোর্ডের সেন্ট হগস কলেজ থেকে দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতি বিষয়ে বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৮ সালে ইংল্যান্ড থেকে দেশে ফিরে বার্মিজদের গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য সংগ্রামে নামলেন সু চি। এ জন্য তাঁকে গৃহবন্দী করা হয়। গত ২১ বছরের মধ্যে ১৫ বছরই কেটেছে তাঁর গৃহবন্দী অবস্থায়। গৃহবন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়েছেন ১৩ নভেম্বর, ২০১০। ১৯৯৯ সালের ১২ জুন পেনসিলভানিয়ার বাকনেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে তাঁর লিখিত এই ভাষণ বার্মায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত (১৯৮৭-৯০) বার্টন লেভিন পাঠ করে শোনান।

বাকনেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যাওয়ার্ড অব মেরিট পাওয়া সত্যি গর্বের বিষয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করার সুযোগ পাওয়াও অনেক গর্বের। সমাবর্তন অনুষ্ঠান যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অনেক আনন্দের মুহূর্ত। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অন্যান্য সদস্য এবং শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের মিলনমেলা বসে। কয়েক বছরের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করার কৃতিত্বের জন্য শিক্ষার্থীদের অভিবাদন জানাতে সবাই সমবেত হন সমাবর্তনে। ওহে গ্র্যাজুয়েটরা, তোমাদের জানাই উষ্ণ অভিনন্দন।
আমার নিজ দেশ বার্মা (মিয়ানমার)। সেখানে হাইস্কুল পাস করা শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগেরই দুর্ভাগ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি পাওয়ার স্বপ্ন যেন সেখানে অসাধ্য, অবাস্তব। গণতন্ত্রের জন্য একটি স্বতঃস্ফূর্ত, জাতীয় আন্দোলনকে যখন ১৯৮৮ সালে সেনাবাহিনী দিয়ে দমন করা শুরু হলো, বার্মায় উচ্চশিক্ষা তখন থেকেই মুখ থুবড়ে পড়েছে। ১৯৯৬ সালের শেষ দিকে রেঙ্গুন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপদ্ধতি নিয়ে বিরক্তির বহিঃপ্রকাশ দেখিয়েছিলেন আন্দোলনের মাধ্যমে। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টি বন্ধ করে দেওয়া হয়। সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান যাঁরা, তাঁরা হয়তো বিদেশে গিয়ে উচ্চশিক্ষা নিতে পারছেন। কিন্তু বার্মার হাজার হাজার তরুণ উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অথচ তাঁদের কোনো অপরাধ নেই।
বার্মায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়াটা হতাশার প্রতীকী চিহ্ন। যার কারণে দক্ষ জনশক্তির ও প্রাকৃতিক সম্পদের একটা দেশ শিক্ষা-দীক্ষায় দুর্দশাগ্রস্ত, সামাজিকভাবে অস্থির ও অর্থনীতিতে হয়েছে হতদরিদ্র। এই হতাশার মূল কারণ জান্তা। ১৯৮৮ সালে বার্মার জনগণ গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলনে নেমেছিল। তিন দশক আগ থেকে শাসকের আসনে থাকা বার্মা সোশ্যালিস্ট প্রোগ্রাম পার্টিকে প্রত্যাখ্যান করার বহিঃপ্রকাশ ছিল সেই আন্দোলন। নিজেদের গন্তব্য সম্পর্কে সচেতন বার্মিজরা সেদিন এমন একটা সরকার চেয়েছিল, জনগণের কাছে যে সরকারের জবাবদিহি থাকবে। এমনই একটি সরকার গঠন করতে ১৯৯০ সালের নির্বাচনে তাঁরা মূল্যবান ভোট দিয়েছিলেন। জান্তা সেই নির্বাচনের ফলাফল উপেক্ষা করে এবং শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে। সেই থেকে মৌলিক অধিকার, স্বাধীনতা ও জীবনের নিরাপত্তার জন্য জনগণকে লড়াই করতে হচ্ছে। বিশেষ করে জ্ঞানার্জনের জন্য সংগ্রাম করছেন তরুণেরা।
এ দাবি কি ন্যায়সংগত নয় যে বিশ্বের সব তরুণের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার অধিকার আছে বার্মিজ তরুণদেরও? জাতিসংঘের সর্বজনীন মানবাধিকার সনদের (ইউনিভার্সাল ডিক্লারেশন অব হিউম্যান রাইটস) ২৬ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, ‘শিক্ষা গ্রহণের অধিকার সবারই আছে।’ ধারাটি আরও বলছে, ‘ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশে/উন্নয়নে, মানবাধিকার ও মানুষের মৌলিক স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন্য শিক্ষা দরকার। বোধশত্তি ও সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং বিশ্বের জাতি, সংস্কৃতি ও ধর্মের মধ্যে বন্ধুত্ব স্থাপনে শিক্ষা সাহায্য করবে। এবং শান্তি রক্ষায় জাতিসংঘের কর্মকুশলকে সহযোগিতা করবে।’
সর্বজনীন মানবাধিকার সনদ অনুযায়ী, একটি দেশে শিক্ষা গ্রহণ কীভাবে সম্ভব, যে দেশে মানুষের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা খর্বিত এবং যে দেশে মানুষের মতামতের কোনো গুরুত্ব নেই, বরং বিদেশিদের সম্পর্কে চালু রাখা হয়েছে এক ধরনের ভীতি আর ঘৃণা?
যেসব দেশে জনগণের উন্নয়নের জন্য যোগ্য যৌক্তিক সরকার আছে, সেসব দেশে বাধাহীন শিক্ষাপদ্ধতি কোনো রাজনৈতিক ইস্যু নয়। পাঠ্যসূচি, প্রাতিষ্ঠানিক আদর্শ, প্রশাসন ও অর্থ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মতামত প্রদান ও বিতর্কের জন্য উন্মুক্ত থাকতে পারে এবং এটাই হওয়া উচিত। কোনো ধরনের বাধাবিপত্তি ছাড়াই তরুণেরা যেন ছোট স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত তাঁদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেন, একটি সমাজ ও তার রাজনৈতিক অবকাঠামোতে এটিই সবচেয়ে গুরুত্ব পাওয়া উচিত। তাহলে শিক্ষাকে অধিকার বলে দাবি তোলার আর দরকারই পড়বে না। তাই এই সমাবর্তনে যাঁরা সমবেত হয়েছেন, তাঁদের সবার কাছে চাওয়া, আমার দেশ নিয়ে আপনারাও একটু ভাবুন। সেখানে শিশুরা ও তাদের মা-বাবারা সংগ্রাম করেন শুধু প্রাথমিক শিক্ষার জন্য।
আমাদের তরুণদের নিয়ে সমস্যাগুলো নিয়ে চিন্তা করুন, যাঁদের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমি মনে করি, তরুণদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার মানে দেশেরই ভবিষ্যৎ ঘোর অন্ধকার।
শিক্ষার মানে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক অর্জনই নয়। সর্বজনীন মানবাধিকার সনদে বলা হয়েছে, ‘শিক্ষা হলো অন্যকে বোঝার ক্ষমতা, সহনশীলতা ও বন্ধুত্ব।’ বিশ্বশান্তি রক্ষায় এগুলোই তো মূল উপাদান। আমি বারবার দেখেছি, এই ধারণা ও অন্যান্য নীতিবিধান যা আমাদের মানবিক হতে সাহায্য করে, আমাদের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার জন্য যথেষ্ট। বাকনেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বার্মার দীর্ঘ ১৪০ বছরের বন্ধুত্ব। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে নানা বৈপরিত্য থাকা সত্ত্বেও এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি দেশের মধ্যে অটুট বন্ধনই প্রমাণ করে যে শেখার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা এবং আমাদের মধ্যে বন্ধুত্ব বজায় রয়েছে।
যতটুকু সম্ভব, বাকনেল বার্মার জন্য বন্ধুত্ব দেখিয়েছে। আমাদের দেশ ও তার মানুষ, ইতিহাস, সংস্কৃতি, রাজনীতি ও অন্যান্য সমস্যায় বাকনেল পাশে দাঁড়িয়েছে। এটা হলো একে অপরকে বোঝা এবং বিপদে সাহায্য করার মানসিকতা থেকে আমরা ভৌগোলিক সীমারেখা ও সাংস্কৃতিক ভিন্নতাকে উপেক্ষা করে পারস্পরিক সহভাগিতা গড়ে তোলা। আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি, এমন একদিন আসবে, যেদিন বার্মার জনগণও বিশ্বের বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে পারিস্পরিক সহভাগিতা গড়ে তুলবে। আজকের এই সমাবর্তনে যাঁরা আমার দেশের মানুষ উপস্থিত আছেন, আশা করব, তাঁরা বিশ্ববাসীকে এটাই দেখাবেন যে শান্তিকামী, সত্যিকারের উন্নয়নশীল জাতি হিসেবে বার্মাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আমরা ঐক্যবদ্ধ। সহনশীলতা, সহমর্মিতা, ন্যায়বিচারের সেই বার্মায় থাকবে স্বাধীনতা। প্রস্ফুটিত হবে শিক্ষার আলো।